পুরনো স্মার্টফোনের আয়ু বাড়ানোর ৫ কৌশল
পুরনো ডিভাইসের কার্যক্ষমতা ধরে রেখে আয়ু বাড়ানোর সহজ কয়েকটি কৌশল বাতলে দিয়েছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট সিনেট। নিজের ডিভাইসটি পরিষ্কার করে রাখা বা ভালো কভার ব্যবহারের মত সহজ কাজগুলো দিয়েই এর আয়ু বাড়ানো যেতে পারে। এছাড়াও আরো যেসব বিষয়ে নজর দিতে হবে সেগুলো হলো-
ফোনের গতি ধরে রাখার এবং সফটওয়্যার জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম এবং অন্যান্য অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখা। এজন্য অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে প্রথমে যেতে হবে ‘সেটিংস’-এ। ‘অটো-আপডেট’ ফিচার বন্ধ থাকলে চালু করে নিতে হবে ‘সেটিংস’ থেকেই। আইফোনের বেলাতেও পদক্ষেপগুলো প্রায় একই। প্রথমে যেতে হবে ফোনের ‘সেটিংস’-এ, তারপর অ্যাপ স্টোরে। ‘অ্যাপ আপডেট’ অপশনটি ‘অন’ না থাকলে চালু করে নিতে হবে সেটি।
এছাড়াও ফোনের ‘সেটিংস’ অ্যাপে খুঁজে নিতে হবে ‘সফটওয়্যার আপডেট’ অপশনটি। এই অপশনটি ব্যবহার করে আপডেট করে নিতে হবে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম।
স্মার্টফোন একটি আধুনিক ডিভাইস হলেও এর স্টোরেজ ও মেমোরির সীমা আছে। অব্যবহৃত অ্যাপগুলো নিয়মিত মুছে দিলে ফোনের স্টোরেজ বাঁচবে। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এমন অ্যাপ কমে এলে গতি বাড়বে ফোনের, দীর্ঘায়ু হবে ফোনের ব্যাটারি। এ অবস্থার পরিত্রাণের জন্য আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড উভয় প্ল্যাটফর্মেই অব্যবহৃত অ্যাপ মুছে ফেলা ভালো। উভয় প্ল্যাটফর্মেই অ্যাপের আইকনে ট্যাপ করে ধরে রাখলেই ড্রপ ডাউন বা পপ-আপ হিসেবে স্ক্রিনে চলে আসবে ‘রিমুভ অ্যাপ’ বা ‘আনইনস্টল’ অপশনটি।
স্মার্টফোনকে আঘাত বা আকস্মিক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারবে এমন মানসম্মত কেস ব্যবহার করার পাশাপাশি অবশ্যই স্কৃন প্রোটেক্টর ব্যবহার করা উচিত। স্ক্রিন পরিষ্কারের সেরা উপাকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় মাইক্রোফাইবার কাপড়। এ ছাড়াও, ব্যবহার করা যেতে পারে অ্যালকোহল ওয়াইপ। তবে, এক্ষেত্রেও খেয়াল রাখতে হবে যে স্ক্রিন পরিষ্কারে ব্যবহৃত বস্তুটি যেন বেশি ভেজা না হয়। আর চার্জিং পোর্ট, মাইক্রোফোন, স্পিকার গ্রিল আর হেডফোন জ্যাকের মতো জায়গায় জমে থাকা ধূলা পরিষ্কার করতে সতর্কতার সাথে টুথপিক ব্যবহার করা যেতে পারে।
কিছুদিন পরপর স্মার্টফোনটিকে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা যেতে পারে। আসলে এটি ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতই একটি বস্তু, যেটির বিশ্রাম প্রয়োজন হয়। সপ্তাহে অন্তত একবার ফোনকে কয়েক মিনিটের জন্য পাওয়ার ডাউন করার নিয়মটি পরবর্তীতে আরও দক্ষতার সাথে ফোনটিকে ব্যবহার করা যাবে। এমনকি, স্মার্টফোনের আয়ু বাড়াতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।
ফোনের ব্যাটারি বেশি হরম হয়ে যায় এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারলে আয়ু বাড়বে ডিভাইসের। প্রচণ্ড গরমের কোনো দিনে স্মার্টফোন সরাসরি রোদে ফেলে রাখা যাবে না। কোনো কাজ করার সময় বা গেম খেলার সময় ডিভাইস বেশি গরম গেলে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে ওই পরিস্থিতিগুলো। তাই ব্যাটারির স্বাস্থ্য মাথায় রেখে ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে দিন শেষে দীর্ঘায়ু হবে ডিভাইস, উপকৃত হবেন ব্যবহারকারী নিজেই।